৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৪ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে একটি করে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা

৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৪ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে একটি করে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা

এমটিনিউজ ডেস্ক : প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। পাঁচ বছর মেয়াদি এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৪ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে একটি করে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণও থাকবে এ কর্মসূচির আওতায়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় পিইডিপি-৫ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
তিনি জানান, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা সংস্থানের লক্ষ্য রয়েছে।
পিইডিপি-৫-এর আওতায় নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, পুরোনো বিদ্যালয় সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের জুতা, স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেও এর কয়েকটি খাতের ব্যয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। বিশেষ করে ৪৩৬ কোটি টাকার পরামর্শক প্যাকেজসহ কয়েকটি অঙ্গের বরাদ্দ যৌক্তিকীকরণের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কিছু কার্যক্রম ও পদের ব্যয় রাজস্ব খাত থেকে বহন করা প্রয়োজন। এ কারণে আগামী দুই বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যয় রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প সমাপ্তির পরবর্তী কার্যক্রম এবং প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) নিয়েও নির্দেশনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পিইডিপি-৫ একটি বড় কর্মসূচি। এতে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সব কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্রুত কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় একনেক অনুমোদন দিয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের সব পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা যুক্ত করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করে জমা দিতে হবে।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছিলেন, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে চলমান চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু হলে অবশিষ্ট শিক্ষকদেরও ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য ০
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।